মেঘালয়ের জীবন্ত মূলের সেতু (Living root bridge): একটি পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি
National Geography
Sudip Bera Date: 13.05.2020National Geography
মেঘেদের আলয় অর্থাৎ মেঘালয়, সবুজ পাহাড় ঘেরা মেঘেদের অবাধ বিচরন দেখা যায় মেঘালয় রাজ্য টিতে। ১৯৬৯ সালে আসাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ৫ টি জেলা নিয়ে ২১ তম স্বশাসিত রাজ্য হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে মেঘালয় রাজ্য। রাজ্যটা চারিদিকে পাহাড় দ্বারা ঘেরা। গারো, খাসি আর জয়ন্তিয়া পাহাড় নিয়ে এই রাজ্য এই তিন ধরনের (গারো, খাসি আর জয়ন্তিয়া) উপজাতির বসবাস।এরা কখনও প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে আবার কখনও বা প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্ব করে বেঁচে থাকে। প্রকৃতির সাথে বন্ধুত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হল শতাব্দী প্রাচীন "জীবন্ত মূলের সেতু"(Living Root Bridge) যার স্থানীয় নাম "Jing Kieng Jri"। ভারতের উওর পূর্ব রাজ্য মেঘালয়ের পশ্চিম জয়ন্তিয়া পাহাড় ও পূর্ব খাসি পাহাড়ে এ ধরনের অনেক জীবন্ত মূলের সেতু দেখতে পাওয়া যায়। এটি শিলং থেকে প্রায় ৯০ কিমি দূরে অবস্থিত।এগুলি প্রধানত খাসি ও জয়ন্তিয়া উপজাতির মানুষেরা বানিয়েছেন। পূর্ব খাসি জেলায় অবস্থিত এশিয়ার সবচেয়ে পরিস্কার গ্রাম মাউলিংনং গ্রাম (Mawlynnong Village) থেকে মাত্র ২ কিমি দুরে অবস্থিত রিয়াই গ্রামে অবস্থিত এই সেতু।রিয়াই গ্রামে পৌঁছানোর পর প্রায় ৪০০ টি ধাপ ভেঙে নিচে নামলে তবেই এই সেতু দেখা যাবে। এই সেতুটি তৈরির উদ্দেশ্য ছিল বর্ষায় এই সেতুর নিচ দিয়ে বয়ে চলা থিলং নদীটি (Thyllong River) প্রচন্ড খরস্রোতা হয়ে পরে তাই মানুষ যাতে সহজেই এই থিলং নদীটি পারাপার করতে পারে তাই দুটি ছোট পাহাড়ের সংযোগ কারী এই সেতুটি তৈরি করা হয়।বর্ষাকালে এই নদী টি ভয়ঙ্কররুপ ধারন করলেও শীতকালে কিন্তুু সেই দৃশ্য দেখা যায় না। বিভিন্ন আর্টিকেল থেকে জানা যায় যে আনুমানিক ১৮৪০ সালে নয়েট (Nohwet) এর কাছাকাছি থিলং নদীর দুদিকে উচু পাহাড়ের ধারে দুটি ইন্ডিয়ান রাবার (Ficus Elastica)গাছ লাগানো হয়। পরবর্তীকালে এই গাছ গুলি বড়ো হওয়ার সাথে সাথে এদের ঝুলন্ত মূলকে কাজে লাগিয়ে এই ব্রিজ তৈরি করা হয়।এছাড়াও বাঁশ ও সুপারির কান্ড ইত্যাদি উদ্ভিদের ও ব্যবহার করা হয়। এর পর এই ব্রিজ এর উপর মাটি ও পাথর ব্যবহার করা হয়। এইভাবে প্রায় ১০- ১২ বছর সময় লেগে যায় একটি ব্রিজ তৈরি করতে। অনুমান করা হয় যে এই ব্রিজ প্রায় ৫০০ বছর কাজের উপযুক্ত থাকে।এই ব্রিজ টার দৈঘ্য প্রায় ৩০ মিটার এবং প্রস্থ প্রায় ১.৫ মিটার এবং এই ব্রিজটা প্রায় ৫০০ মানুষের ভার বহন করতে সক্ষম।এটতো গেল একক ব্রিজ অন্যদিকে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জির নিকট Nongriat, Tyrna এ দেখা যায় যুগ্ম সেতু (Double Decker Living Root Bridge) যেটি আরও আর্কষনীয় পর্যটকদের কাছে।উল্লেখ্য জার্মানির এক গবেষক এই বিষয়টির উপর একটি কাজ করেছে এবং শহরকে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিবেশ বান্ধব এই ধরনের প্রযুক্তির উপর জোর দিতে বলেন।



Comments
Post a Comment