Satellite Lounch Station কেন সর্বদা পূর্ব উপকূলে স্থাপন করা হয়?
Satellite lounch এর ক্ষেত্রে আমার একটা বিষয় লক্ষ্য করা যায় যে ভারতের শ্রীহরিকোটা সহ বিশ্বের বেশির ভাগ Satellite lounching site গুলি সবসময় পূর্ব দিকে স্থাপন করা হয়। এর পিছনে মুলতঃ কিছু কারন রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ু উপকূলীয় অঞ্চলগুলিতে একটি সমীক্ষা করার পরে, ভারতীয় মহাকাশ কর্মসূচির (ISRO) প্রতিষ্ঠাতা বিক্রম সারাভাই শ্রীহারিকোটা দ্বীপকে (নেলোর, অন্ধ্রপ্রদেশ ) নির্বাচন করেছেন। শ্রীহরিকোটা  (অক্ষাংশ - 13°47`N, 80°15`E এর দ্রাঘিমাংশ সহ) একটি স্পিন্ডল আকৃতির দ্বীপ যা বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে অবস্থিত যেখানে  প্রায় 170 বর্গ কিমি এলাকা এবং প্রায় 60 কিমি দীর্ঘ উপকূল রেখা রয়েছে। এটি বেশিরভাগই জনবসতিহীন।
◾ভারতে মূলত দুটি স্পেস লঞ্চিং সেন্টার রয়েছে যার মধ্যে একটি থুম্বা ইকুয়েটরিয়াল রকেট লঞ্চিং স্টেশন(তিরুবনন্তপুরম) (Thumba Equatorial Rocket Launching Station) (Thiruvananthapuram) । এটি মূলত উপরের বায়ুমণ্ডলীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সাউন্ডিং রকেট চালু করতে ব্যবহৃত হয়(sounding rockets for conducting upper atmospheric experiments)। এই রকেটগুলি ছোট এবং নির্দিষ্ট উচ্চতায় চলে যায়, যা 100 কিলোমিটারেরও কম।
অন্যটি হচ্ছে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (Satish Dhawan Space Centre (SDSC) or Sriharikota High Altitude Range (SHAR) এটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসাবে নির্বাচিত হয়।
◾সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SHAR) অন্ধ্র প্রদেশের পূর্ব উপকূলে একটি  দ্বীপ শ্রীহারিকোটায় অবস্থিত।  এবং সুরক্ষা অঞ্চলের জন্য বিশাল জনবহুল অঞ্চল এটিকে একটি আদর্শ স্পেসপোর্ট হিসাবে তৈরি করে। SHAR উপকূলীয় দৈর্ঘ্য 27 কিমি (17 মাইল) সহ প্রায় 145 কিমি 2 (56 বর্গ মাইল) এর মোট অঞ্চল জুড়ে। ভারত সরকার ইসরোর অধিগ্রহণের আগে এটি ছিল ইউক্যালিপটাস এবং ক্যাসুয়ারিনা গাছের কাঠের কাঠের বাগান। এই দ্বীপ দক্ষিণ-পশ্চিমা এবং উত্তর-পূর্ব দিকের বর্ষা উভয় দ্বারা প্রভাবিত হয়, তবে ভারী বৃষ্টিপাত কেবল অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসে আসে। অর্থাৎ বছরের বেশির ভাগ সময়ই এখানে আকাশ পরিস্কার থাকার জন্য  উপগ্রহ উৎখেপন করতে সুবিধা হয়।শ্রীহারিকোটোটাকে ভারতের আদর্শ উপগ্রহ লঞ্চপ্যাড হিসাবে নির্বাচন করার সময় বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল।বেশ কয়েকটি কারণ লঞ্চ সাইটের পছন্দকে প্রভাবিত করে। প্রথমত এটি জনবহুল অঞ্চল থেকে দূরে অবস্থিত হওয়া উচিত। যেহেতু এটি লঞ্চ সাইটে ভারী সরঞ্জাম স্থানান্তরিত জড়িত, রেল, রাস্তা এবং / অথবা শিপিংয়ের অথাৎ জলপথের সুগম্যতা  সহজেই নেওয়া যায়। উপকূলীয় অঞ্চলগুলি পছন্দের লঞ্চ সাইটগুলিতে পরিণত হয়। শ্রীহারিকোটাতে এই সমস্ত প্রয়োজনীয়তার সুবিধা গুলি পাওয়া যায়
◾অবস্থান(Location): নিরক্ষীয় অঞ্চলের নিকটে অবস্থিত, শ্রীহারিকোটা জিওস্টেশনারি উপগ্রহের জন্য আদর্শ লঞ্চ সাইট।
◾ নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছাকাছি (Near to the Equator)
যদি লঞ্চের অবস্থান নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছাকাছি হয়, তবে প্রচুর জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। নিরক্ষীয় অংশটি ভারতে দক্ষিণের দিকে পড়ে - পাশাপাশি 7,500 কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে।নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর সর্বাধিক রৈখিক গতিবেগ থাকে 1670 কিমি / ঘন্টা এবং এটি অক্ষাংশের সাথে হ্রাস পায় অর্থাৎ মেরুতে যাওয়ার সময় গতি ধীরে ধীরে হ্রাস পায় এবং এটি কার্যত সেখানে শূন্য। নিরক্ষীয় অঞ্চলের কাছাকাছি সাইটগুলি থেকে পূর্ব দিকের দিকে যাত্রা করা একটি উপগ্রহ পৃথিবীর পৃষ্ঠের গতির সমান প্রাথমিক গতিবেগ বেশি হয়। শ্রীহারিকোটায়, পৃথিবী রৈখিক গতিবেগ প্রায় 1622 কিমি / ঘন্টা। এছাড়াও পূর্ব দিকের লঞ্চগুলির জন্য শ্রীহারিকোটা আদর্শ। পূর্ব উপকূলে SHAR এর অবস্থান নিশ্চিত করে যে সহজেই রকেট চালু করতে পৃথিবীর আবর্তনের কারণে এটি 0.4 কিমি / সেকেন্ডের একটি অতিরিক্ত গতি অর্জন করে। বেশিরভাগ স্যাটেলাইট পূর্ব দিকে চালু করা হয়েছে।
◾সমুদ্রের কাছে (Near the sea location)
এটি ভারতের পূর্ব উপকূলে রয়েছে যার ফলস্বরূপ স্থল না হয়ে সমুদ্রের উপরে রকেট ট্রাজেক্টোরি (trajectory) হয়েছিল। যদি রকেট ট্র্যাজকোলজিগুলি জমির উপর নকশাকৃত হতো তাহলে রকেট বিস্ফোরিত হলে এটি লোককে বিপদে ফেলতে পারে।
◾স্থিতিশীল ভৌগলিক প্ল্যাটফর্ম (Stable geographical platform)
শ্রীহরিকোটা দ্বীপপুঞ্জের ভূমিভাগ  শক্ত, মাটি শক্তিশালী, এর নীচে শক্ত শিলা থাকার দরুন লঞ্চের সময় যে কম্পন  উৎপন্ন হয় সেই  তীব্র কম্পনকে সহ্য করতে সক্ষম করে তোলে।
◾ সুরক্ষা (Safe location for Launching)
শ্রীহরিকোটা একটি অনুর্বর ভূমি যা মূলত জনবসতিহীন। এটি ভারতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত যার ফলে রকেটের বেশিরভাগ পথ স্থলভাগের চেয়ে সমুদ্রে  হয়ে পড়ে যা নাগরিকদের ক্ষেত্রে দূঘটনার প্রবনতা কমে যায়।
◾সুগম্যতা(Accessibility)
উপগ্রহের (Satellite) উপকরণগুলি বিশাল এবং বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে। এই কারণে, এটি পরিবহণের সমস্ত উপায়ে অ্যাক্সেসযোগ্য হতে হবে; জমি, বায়ু, জল। একই সাথে, সাইটটি দুর্ঘটনার জন্য প্রবণ। সুতরাং, এটি বাসিন্দাদের থেকে দূরে থাকা উচিত।
কোন বাসস্থান না থাকার উপকূলীয় দ্বীপপুঞ্জ শ্রীহারিকোটা অঞ্চলটি  উপগ্রহ উৎখেপন জন্য উপযোগী। এছাড়াও এটি ন্যাশনাল হাইওয়েতে (National Highway (NH-5), নিকটতম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে এবং বিমান ও জাহাজের মাধ্যমে নিকটস্থ আন্তর্জাতিক বন্দর থেকে ৭০ কিলোমিটার (চেন্নাই) দুরে রয়েছে।
কিছু বিখ্যাত launch sites হল Kennedy site in Florida, U. S., Kourou in French Guiana, South America, San Marco in Africa and Alcantara in Brazil, South America.
◾আর একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে কেন আমরা নিরক্ষীয় অঞ্চলের আরও কাছাকাছি যেতে পারি না?
এর পিছনে মুলতঃ দুটি কারন রয়েছে
◾প্রথমত, বেশিরভাগ সমস্ত লঞ্চ স্টেশন গুলি পূর্ব দিকে কিন্তু পশ্চিমদিকে হলে সমস্যা কি হতো। সুতরাং যদি  কর্নাটকের ম্যাঙ্গালোরের কাছাকাছি কোথাও একটি লঞ্চ স্টেশন স্থাপন করা হয় আর যদি উপগ্রহ উৎখেপন  ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাদের লঞ্চ যানটি ভারতের মাটিতে পড়বে এবং হতাহতের কারণ হতে পারে। সুতরাং পশ্চিম উপকূলে আমাদের কোনও লঞ্চ স্টেশন থাকতে পারে না।
◾দ্বিতীয়ত, পূর্ব দিকে অথাৎ পূর্ব উপকূলে , শ্রীহরিকোটা দ্বীপপুঞ্জের নিচে অথাৎ তামিলনাড়ুর নিচের দিকে লঞ্চ স্টেশন স্থাপন সম্ভব নয় কারন যদি উপগ্রহ উৎখেপন  ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাদের লঞ্চ যানটি শ্রীলঙ্কার  মাটিতে পড়বে এবং হতাহতের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই নাগপট্টিনাম থেকে চেন্নাই যাওয়ার পথে আমাদের কাছে কোনও উৎখেপন  দ্বীপ নেই যা স্পেসপোর্টের জন্য আদর্শ হবে। সুতরাং নিকটতম যা পাওয়া গেল তা ছিল শ্রীহরিকোটা।
আবার দেখা যায় যে যে সমস্ত দেশের উপযুক্ত স্থান নেই তারা অন্য কোনো দেশে তা স্থাপন বা সাহায়্য নেয়। যেমন ইউরোপের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হয় দক্ষিণ আমেরিকার গুয়েনা থেকে।

Comments