#চারধাম_যাত্রা
------------------------------------
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে চারধাম নামে পরিচিত চার প্রধান তীর্থস্থান হল বদ্রীনাথ, দ্বারকা, রামেশ্বরম এবং পুরী। বদ্রীনাথ আবার ছোটাচারধামের (কেদারনাথ, বদ্রীনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনেত্রী) অন্যতম ধাম।কথিত আছে যে জীবনে এই চারধাম যাত্রা করলে নাকি পুন্যলাভ হয়।
#বদ্রীনাথ
বদ্রীনাথ মন্দির হল ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের বদ্রীনাথ শহরে অবস্থিত একটি হিন্দু মন্দির। এই মন্দিরের অপর নাম বদ্রীনারায়ণ মন্দির। এটি হিন্দু দেবতা বিষ্ণুর মন্দির। বদ্রীনাথ শহর ও বদ্রীনারায়ণ মন্দির ‘চারধাম’ ও ‘ছোটো চারধাম’ নামে পরিচিত তীর্থগুলির অন্যতম। বদ্রীনাথ মন্দির ‘দিব্য দেশম’ নামে পরিচিত ১০৮টি বৈষ্ণব তীর্থেরও একটি।উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় গাড়ওয়াল পার্বত্য অঞ্চলে অলকানন্দা নদীর তীরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,১৩৩ মি উচ্চতায় এই মন্দিরটি অবস্থিত। বদ্রীনাথ ভারতের জনপ্রিয় তীর্থগুলির একটি।এই মন্দিরের প্রধান দেবতা বিষ্ণু ‘বদ্রীনারায়ণ’ নামে পূজিত হন।মন্দিরটি তিনটি পৃথক অংশে বিভক্ত: গর্ভগৃহ, দর্শন মণ্ডপ ও সভামণ্ডপ।
মন্দিরের ঠিক নিচে তপ্তকুণ্ড নামে একটি উষ্ণ গন্ধক প্রস্রবন রয়েছে। এটির ঔষধিগুণ আছে বলে মনে করা হয়। অনেক তীর্থযাত্রী মনে করেন, মন্দিরে যাওয়ার আগে এই কুণ্ডে স্নান করা আবশ্যক। মন্দিরের দুটি পুকুরের নাম নারদ কুণ্ড ও সূর্যকুণ্ড।
#দ্বারকা
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে চারধাম নামে পরিচিত চার প্রধান তীর্থস্থানের একটি হল দ্বারকা।
গোমতী নদীর উপকূলে পবিত্র শহর দ্বারকায়, দ্বারকানাথ মন্দির অবস্থিত। প্রভু শ্রী কৃষ্ণের প্রাচীন সাম্রাজ্য হিসাবে বিবেচিত, দ্বারকায় বহু সংখ্যক ধর্মীয় স্থান এবং মন্দির রয়েছে। এটা বলা হয়যে এখানে আদি মন্দিরটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাতি, বজ্রনাভ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, যিনি প্রভুর আবাসস্থলের উপরে একটি হরি গৃহ নির্মান করেন।
দ্বারকা হলো ভারতের গুজরাত রাজ্যের দেবভূমি দ্বারকা জেলায় অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর ও পৌরসভা। । আবার সপ্তপুরী নামে পরিচিত ভারতের সাতটি প্রাচীনতম শহরের অন্যতম হল দ্বারকা। হিন্দুশাস্ত্রে দ্বারকাকে কৃষ্ণের রাজধানী বলা হয়েছে। মনে করা হয়, এটিই ছিল গুজরাতের প্রথম রাজধানী। কৃষ্ণের অপর নাম দ্বারকাধীশ বা দ্বারকেশ্বর। খ্রিস্টীয় ষষ্ঠ বা সপ্তম শতাব্দীতে দ্বারকাধীশ মন্দির নির্মিত হয়। ১২৪১ খ্রিস্টাব্দে, এই মন্দিরটি মহম্মদ শাহ্ আক্রমণ করেন এবং এইসময় মন্দিরের কিছু অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই মন্দিরের দুটি প্রবেশপথ সহ চুনাপাথর দ্বারা তৈরি পাঁচ তলা কাঠামোর মন্দিরটি ৭২-টি স্তম্ভ দ্বারা সমর্থিত।মন্দিরটির উপরে বিদ্যমান একটি পতাকা ৫২ গজ কাপড় এবং ৫২-টি ছোট পতাকার সমন্বয়ে গঠিত।
মন্দিরের দক্ষিণ প্রবেশপথ কে বলা হয় স্বর্গদ্বার যা ৫৬ টি সিঁড়ির মাধ্যেমে গোমতী নদীতে গিয়ে শেষ হয়েছে। আর উত্তর দিকের প্রবেশপথ কে বলা হয় মোক্ষ দ্বার।
মন্দিরটি বর্তমানে ইউনেস্কোর ওয়াল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পেয়েছে।
#পুরী
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে চারধাম নামে পরিচিত চার প্রধান তীর্থস্থানের দ্বিতীয়টি  হল পুরীর জগন্নাথ মন্দির।পুরী ভারতের ওড়িশা রাজ্যের পুরী জেলার একটি শহর ও পৌরসভা এলাকা। এই শহর পুরী জেলার সদর শহর এবং বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। উড়িষ্যার রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে ৬০ কিমি দূরে অবস্থিত। পুরী হিন্দুদের চারধামের অন্যতম একটি ধাম হিসেবে বিখ্যাত।এই মন্দিরটি একটি বিখ্যাত হিন্দু তীর্থক্ষেত্র বিশেষ করে বিষ্ণু ও কৃষ্ণ উপাসকদের নিকট। এটি চারধামের অন্যতম যেখানে সকল ধার্মিক হিন্দুদের জীবনে অন্তত একবার যেতে চান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার পুরীতে।রাজা যযাতি কেশরীর তৈরি মন্দিরটি ১১৯৮ সালে সংস্কার করেন রাজা অনঙ্গ ভীমদেব। আজকের মন্দিরটির তিনিই রূপকার। নীল পর্বতের ১০ একর জমির উপর মন্দিরটি শক্তপোক্ত প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। চারটি প্রবেশদ্বার। সিংহদ্বার, হস্তিদ্বার, অশ্বদ্বার, খাঞ্জাদ্বার। ২২টি সিঁড়ি বেয়ে মন্দিরপ্রাঙ্গন। যা ৪২৪x৩১৫ ফুটের বিশাল প্রাচীরে ঘেরা। মূল মন্দিরের গর্ভগৃহে শ্বেতবর্ণের বলরাম, পীতবর্ণের সুভদ্রা এবং কৃষ্ণবর্ণের প্রভু জগন্নাথ। বামে মহালক্ষ্মী, ডানে মহা সরস্বতী। তাঁরা প্রভু জগন্নাথের স্ত্রী। সবার পিছনে নীলমাধব।
মন্দিরের গোপন কক্ষে সাতটি ঘর আছে। সেই ঘরগুলিই হল রত্নভাণ্ডার। ৩৪ বছর আগে মাত্র তিনটি ঘরের তালা খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন কর্মকর্তারা। বাকি ঘরগুলিতে কী আছে, তা আজও রহস্যই রয়ে গিয়েছে।
#রামেশ্বরম
কথিত আছে যে রামচন্দ্রের ১৪ বছরের বনবাস কালে নির্মিত হয় এই রামেশ্বর মন্দির।রামেশ্বরমের রামনাথস্বামী মন্দিরের বিশেষ বৈশিষ্ট্যটি তার বিস্ময়কর pillared hallway, ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘতম হিসাবে গণ্য, তার ঘনত্ব আচ্ছাদিত খোদিত স্তম্ভগুলির প্রতীক্ষমাণ অবিরাম সারিগুলির একটি মজার পেইন্টিং সিলিং আছে। মন্দিরটি সমুদ্র থেকে মাত্র 100 মিটার (অগ্নি থিথেম) অবস্থিত এবং তীর্থযাত্রীরা প্রথমে সেখানে স্নান করে, মন্দিরের ভিতরে ঢুকতে এবং তার 22 টি কুলায় স্নান করে। পানি পবিত্র এবং মনের ও শরীরকে বিশুদ্ধ বলে বিবেচিত হয়। ভারতীয় উপদ্বীপের একটি ছোট দ্বীপে রমেশ্বরম হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে একটি বিশেষ স্থান ধারণ করে, যেখানে শ্রীমঙ্গল রাবণের চাঁদের ভেতর থেকে সিটাকে উদ্ধারের জন্য লর্ড রাম সমুদ্র জুড়ে একটি সেতু নির্মাণ করেন।
শিবরাত্রিতে এই মন্দিরে পুজো করা হয় কাঁঠালগাছ। এ পি জে আব্দুল কালামকে বিরল সম্মান জানাল তামিলনাডু। রামেশ্বরমে মন্দিরের গায়ে স্থান পেল বরণীয় বিজ্ঞানীর আবক্ষ মূর্তি।মন্দিরের ওপরে অন্য ভাস্কর্যের সঙ্গে রয়েছে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালামের মূর্তি। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই আব্দুল কালামের মূর্তিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গীতার পাশে কোরান ও বাইবেল রেখে উদাহরণ স্থাপন করেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যরা।
📚তথ্যসূত্রঃ এইসময়,পুরী ভ্রমন পুস্তক, ইন্টারনেট

Comments